সেই সেঞ্চুরিটিই নাকি হতো না যদি না তিনি পাকিস্তানের শিয়ালকোটে রক্তাক্ত না হতেন!

১৯৯০ সালের ১৪ আগস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ডে তাঁর সেই ‘ম্যাচ বাঁচানো’ শতকটি যেকোনো বিচারেই বিশেষ কিছু। কিন্তু সেই সেঞ্চুরিটিই নাকি হতো না যদি না তিনি পাকিস্তানের শিয়ালকোটে রক্তাক্ত না হতেন!

ক্রিকেটের এই জীবন্ত কিংবদন্তি নিজেই বলেছেন এ কথা। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির জন্য তিনি কৃতজ্ঞ শিয়ালকোটে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচের প্রতি। সে ম্যাচে ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনিসের এক বাউন্সারে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। টেন্ডুলকার মনে করেন, ওয়াকারের সেই বাউন্সার নাকি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ভিত মজবুত করেছিল। তাঁর মতে, সে মুহূর্তটি এমনই ছিল যে হয় সেটি কোনো খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে, নয়তো তাঁর ক্যারিয়ার শেষ করে দেবে।

১৯৯০ সালে ১৪ আগস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই শতকটি ছিল ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে। প্রথম ইনিংসেও তিনি আহত হয়েছিলেন ডেভন ম্যালকমের বলে। সে সময় ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম দ্রুতগতির দুই বোলারের বলে আহত হয়ে ‘ভয়’ নামের অনুভূতি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তাঁর ভাবনা থেকে। এরপর টেন্ডুলকার তরতর করে কেবল সিঁড়ি বেয়ে উঠেছেনই। নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়।

ডেভন ম্যালকমের বলে ব্যথা পেয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে করেছিলেন সেই সেঞ্চুরিটি। পঞ্চম দিনের উইকেটে ১১৯ রান করে শেষ অবধি অপরাজিত ছিলেন। তাঁর সেই সেঞ্চুরিতে হার এড়িয়েছিল ভারত। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের সেই সেঞ্চুরিটি দিয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্রিকেট দুনিয়ায় রাজত্ব করার জন্যই তাঁর আবির্ভাব।

নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটির স্মৃতিচারণ করেছেন টেন্ডুলকার। কিন্তু সেখানে প্রথমেই তুলেছেন শিয়ালকোটে ওয়াকারের বাউন্সারে আহত হওয়ার কথাটি, ‘টেস্ট বাঁচানোর সেই সেঞ্চুরি (ওল্ড ট্রাফোর্ড) ছিল আমার জন্য পুরোপুরি নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু ওয়াকারের বাউন্সারে ১৯৮৯ সালে শিয়ালকোট টেস্টে নাক ভেঙে যাওয়ার পর রক্তাক্ত অবস্থায় ৫৭ রানের সেই ইনিংসটি ছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডের ভিত্তি।’

তিনি তাঁর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘শিয়ালকোটের ম্যাচটিতে ভারত ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আমি রক্তাক্ত অবস্থায় ৫৭ রানের একটা ইনিংস খেলি। ওয়াকারের বাউন্সারে আহত হওয়ার পর তীব্র ব্যথা নিয়ে খেলা সেই ইনিংসটিই আমাকে গড়ে দিয়েছিল ভবিষ্যতের জন্য। ওয়াকারের বাউন্সারে আঘাত পাওয়াটা ছিল অনেকটা এমন যে হয় সেটি আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত করবে নয়তো আপনার ক্যারিয়ার শেষ করে দেবে, মানসিকভাবে আপনি শেষ হয়ে যাবেন।’

ব্যথা সয়ে খেলে যাওয়ার অভ্যাসটা ছিল অনেক পুরোনোই। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তিনি যখন ছোটবেলায় খেলতেন তখন ক্রিকেট বলে ব্যথা পাওয়াটা ছিল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কোচ রমাকান্ত আচরেকারও ছোট্ট টেন্ডুলকারকে ব্যথা সয়ে খেলে যাওয়ার শিক্ষাটা দিয়েছিলেন, ‘মুম্বাইয়ে শিবাজি পার্কে ছোটবেলায় খেলার সময় ব্যথা পেতাম। কাঁদতাম। কিন্তু আচরেকার স্যার সেই ব্যথা সহ্য করে খেলে যেতে বলতেন। ওয়াকারের বলে বা ডেভনের বলে আহত হওয়ার পরেও আমি মাথায় রেখেছিলাম, কোনোভাবেই নিজের ব্যথা বোলারকে বুঝতে দেওয়া যাবে না।’