কড়া সমালোচনা করলেন শ্রীলেখা-তসলিমা: রুদ্রনীল

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই ফেসবুকে রুদ্রনীল ঘোষকে ব্যঙ্গ করে একটি ছবি শেয়ার করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। পোস্টটিতে রুদ্রনীলের রংবদলের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ অভিনেতার একই ছবিতে একাধিক রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম ছবিটি কোনও রঙের ব্যবহার নেই। তার নিচে লেখা রুদ্রনীল।

পরের ছবিতে লাল রং ব্যবহার করে লেখা হয়েছে ‘রুদ্রলাল’। তৃতীয় ছবিতে আবার সবুজ রং ব্যবহার করে লেখা হয়েছে ‘রুদ্রসবুজ’। শেষের ছবিতে দেওয়া হয়েছে গেরুয়া রং। নিচে লেখা ‘রুদ্রগেরুয়া’। ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘সংগৃহীত বস্তু…সৃজনশীলতার জন্য আমাকে কোনও ক্রেডিট দেবেন না।’

এরপরই রুদ্রনীল ঘোষকে কটাক্ষ করে পোস্ট করেছেন তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে অতীতে বেসরকারি চ্যানেলের আলোচনায় অংশগ্রহণের পুরনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তসলিমা নাসরিন।

ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি রুদ্রনীল রুদ্রনীল! কী ঘটেছে জানিনা। তবে নামটি দেখলে একটি দিনের কথা মনে পড়ে।

আমি তখন কলকাতায় রওডন স্ট্রিটের ৭ নম্বর বাড়িতে থাকি। সম্ভবত ২০০৬ সাল। আমার বাড়ি থেকে কলকাতা টিভি খুব কাছে ছিল। টিভি থেকে আমাকে হঠাৎ হঠাৎ ডাকা হতো, কোথাও নারী নির্যাতন ঘটলে ও নিয়ে কথা বলার জন্যই সাধারণত।

একদিন ভয়াবহ কোনও নারী নির্যাতন নিয়ে আলোচনা হবে, আমি একজন বক্তা, বাকি দু’জন বক্তার মধ্যে একজন এসে গেছেন, আরেকজন আসছেন, পথে। তৃতীয় জনকে ছাড়াই সময় হয়ে গেছে বলে আলোচনা শুরু করলেন পরিচালক। শুরু হওয়ার মিনিট দশেক পর যোগ দিলেন রুদ্রনীল, তৃতীয় বক্তা। অনুষ্ঠানের পরিচালক বোধহয় রুদ্রনীলের বন্ধু ছিলেন।

ওকে দিয়েই মূলত কথা বলিয়েছেন এবং ওর কথাগুলোই মাথা নেড়ে হাত নেড়ে সমর্থন করেছেন। একবার আমাকে প্রশ্ন করার পর উত্তরে পুরুষতন্ত্র দায়ী বা এরকম কিছু বলেছি, সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলে উঠলেন, পুরুষতন্ত্র আবার কী জিনিস?

পুরুষতন্ত্রের কোনও অস্তিত্ব নেই সমাজে। বললেন, হ্যাঁ পুরুষতন্ত্র নামে একটা জিনিস ছিল, ছিল প্রাচীনকালে। তার দিদিমাদেরও দিদিমাদের আমলে। একালে পুরুষতন্ত্র নেই। একালে সর্বক্ষেত্রে নারী উপভোগ করছে সমানাধিকার।

নারী নির্যাতন কখনই ঘটে না, যদি কখনও ঘটেই থাকে, ঘটে নারীদের দোষে। কোনও পুরুষতন্ত্র বা পুরুষ এর জন্য দায়ি নয়। আমি অনুষ্ঠানের বাকিটা সময় আর কোনও কথা না বলে প্রচণ্ড জ্ঞানী ব্যক্তিটির বক্তৃতা শুনে গেছি। ওর নাটক আমাকে আর টিকিট কেটে দেখতে হয়নি।’